স্টাফ রিপোর্টার::
সুনামগঞ্জে বাধ্যতামূলক প্রি-কেস মেডিয়েশন চালুর পর বিরোধ নিষ্পত্তি ও সরকারি আইনগত সহায়তা কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলে জানিয়েছেন জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার (সিনিয়র সহকারী জজ) মো. জুনাইদ।
সোমবার দুপুরে সিজেএম কোর্ট ভবনে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের উদ্যোগে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় ও সচেতনতামূলক সভায় তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। সভায় মো. জুনাইদ বলেন, গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন সুসংহতকরণ এবং জনগণের আইনগত সচেতনতা বৃদ্ধিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি খরচে আইনগত সহায়তা ও আপোষের মাধ্যমে বিরোধ নিস্পত্তির কার্যক্রম জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে গণমাধ্যম অন্যতম প্রধান অংশীদার।
তিনি জানান, আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর আওতায় বাধ্যতামূলক প্রি-কেস মেডিয়েশন চালুর পর সুনামগঞ্জে বিরোধ নি®পত্তির ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। জানুয়ারি-জুন ২০২৫ এবং জানুয়ারি-জুন ২০২৬ সময়ের তুলনামূলক পরিসংখ্যানেই এর সুস্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যায়।
উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি-জুন সময়ে প্রি-কেস আবেদন হয়েছে ১ হাজার ৮৪৯টি, যা ২০২৫ সালের একই সময়ে ছিল ১৭১টি। এ সময়ে প্রি-কেস মীমাংসা হয়েছে ২৬৬টি, যেখানে আগের বছর ছিল ৭৯টি। পোস্ট-কেস মীমাংসা হয়েছে ৩০টি, যা ২০২৫ সালে ছিল শূন্য। আপোষের মাধ্যমে আদায় হয়েছে ২৬ লাখ ৫৯ হাজার ৮০০ টাকা, যেখানে আগের বছর আদায়ের পরিমাণ ছিল মাত্র ২ লাখ ৯০০ টাকা। সরকারি আইনগত সহায়তা গ্রহণ করেছেন ৭৪৬ জন, যা আগের বছর ছিল ১৫৭ জন। আইনগত পরামর্শ গ্রহণ করেছেন ৭৫৭ জন, আগের বছর এ সংখ্যা ছিল ৬২০। এছাড়া ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ৪৬টি সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে ১ হাজার ৯৯৫ জন অংশগ্রহণ করেন। ২০২৫ সালের একই সময়ে মাত্র ৩টি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন ৭৭ জন। চলতি বছরে মোট উপকারভোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫১৩ জন, যা গত বছর ছিল ৬৩৯ জন। একই সময়ে মোট ১ হাজার ৮৩২টি বিরোধ নি®পত্তি হয়েছে, যেখানে ২০২৫ সালে নিস্পত্তি হয়েছিল ১৮৫টি। জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার বলেন, এসব পরিসংখ্যান কেবল সংখ্যা নয়; প্রতিটি সংখ্যার পেছনে রয়েছে একটি পরিবারে শান্তি ফিরে আসার গল্প, একটি বিরোধের সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাধান এবং একজন সাধারণ মানুষের দ্রুত ও সহজে ন্যায়বিচার পাওয়ার বাস্তব অভিজ্ঞতা।
তিনি আরও বলেন, আইনগত সহায়তা প্রদান আইন অনুযায়ী লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে স¤পাদিত আপোষনামা আদালতের ডিক্রির সমমর্যাদা লাভ করে। ফলে এটি আইনগতভাবে কার্যকর ও বলবৎযোগ্য দলিল হিসেবে গণ্য হয় এবং কোনো পক্ষ চুক্তি ভঙ্গ করলে অপর পক্ষ আইনগত প্রতিকার চাইতে পারেন।
তিনি জানান, লিগ্যাল এইড অফিসারের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ প্রদানের ক্ষমতা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করেছে। মীমাংসা চলাকালে কোনো পক্ষের স্বার্থ বা স¤পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে প্রয়োজনীয় অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দিয়ে তাৎক্ষণিক সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হয়। এতে চূড়ান্ত সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষ একতরফা সুবিধা নিতে পারে না। সভায় তিনি জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা প্রদান অধিদপ্তর (ডিবিএলএ), বিচার বিভাগ, জেলা প্রশাসন, আইনজীবী সমাজ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীদের অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করেন। সভায় প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
বাধ্যতামূলক মেডিয়েশন ব্যবস্থায় মামলার আগেই মিলছে সমাধান
গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের মতবিনিময় ও সচেতনতামূলক সভা
- আপলোড সময় : ১৪-০৭-২০২৬ ০১:৫৫:২১ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৪-০৭-২০২৬ ০১:৫৭:৪৫ অপরাহ্ন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ